শেষ হলো চেন্নাই বনাম পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচ, দেখেনিন ফলাফল!

পাঞ্জাবের বিপক্ষে মাথিশা পাথিরানা ও তুষার দেশপান্ডেকে ছাড়াই পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। বোলিং করতে নেমে ২ বল পরই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন দীপক চাহার। ফলে বলে তুলনামূলক দুর্বল বোলিং আক্রমণ নিয়েই পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে রুতুরাজ গায়কোয়ারের দলকে।

মুস্তাফিজুর রহমান ইকোনোমিক্যাল বোলিং করলেও বাকিরা দেদারসে রান বিলিয়েছেন। ফলে এই ম্যাচে ৭ উইকেটে হারতে হয়েছে চেন্নাইকে। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর পরও মাঝে টানা ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে চেন্নাই। সেখান থেকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টেনে তোলেন ৬২ রানের ইনিংস খেলা রুতুরাজ।

শেষ দিকে মঈন আলীর ১৫ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির ১৪ রানের সুবাদে ১৬২ রানের পুঁজি পায় চেন্নাই। এরপর বোলিংয়ে নেমে ভালো শুরু পায়নি চেন্নাই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দীপক চাহার। এরপর সেই ওভার পূরণ করতে আসেন শার্দুল ঠাকুর। দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিচার্ড গ্লেসন।

আইপিএলে নিজের প্রথম পাঁচ বলেই ডট করেন তিনি। অবশ্য শেষ বলে তাকে চার মারেন জনি বেয়ারস্টো। তৃতীয় ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে বল তুলে দেন চেন্নাই অধিনায়ক। ওভারে মাত্র ২ রান খরচা করেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রাভ সিমরান সিংকে সাজঘরে ফেরান গ্লেসন।

মুস্তাফিজ নিজের দ্বিতীয় ওভারে একটু খরুচে ছিলেন। সেই ওভারে দেন ১০ রান। দ্বিতীয় উইকেটে রাইলি রুশোকে নিয়ে পাঞ্জাবের ইনিংস বেশ ভালোই টানছিলেন বেয়ারস্টো। তাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন শিভম দুবে। তৃতীয় উইকেটে রুশোর সঙ্গে যোগ দেন শশাঙ্ক সিং।

দুজনে মিলে পাঞ্জাবের সংগ্রহ একশ পাড় করেন। দারুণ খেলতে থাকা রুশোকে নিজের শিকার বানিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর। ২৩ বলে ৪৩ রান করে আউট হন রুশো। মুস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভারে মেইডেন দিয়েছেন। তার ওভারে কোনো রানই নিতে পারেননি শশাঙ্ক।

শেষ ওভারে ওয়াইডের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মুস্তাফিজ। চারটি ওয়াইড দেন তিনি। নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন ২২ রান দিয়ে। পাঞ্জাবকে আর কোনো বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক স্যাম কারান ও শশাঙ্ক। দুজনে পাঞ্জাবকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। কারান ২৬ ও শশাঙ্ক ২৫ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সাবধানী শুরু করেন আজিঙ্কা রাহানে ও রুতুরাজ। সবশেষ কয়েক ম্যাচে ছন্দে না থাকার পরও রাহানের উপরই আস্থা রাখে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। পাওয়ার প্লেতে অবশ্য তারা দুজনে মিলে কোন উইকেট না হারিয়েই ৫৫ রান তোলে। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরই বিপাকে পড়ে তারা। কারণ প্রত্যাশিত রান তুলতে পারছিলেন না তাদের দুজনের কেউই।

রান তোলার চাপে শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেট দিয়ে এসেছেন রাহানে। হারপ্রীত ব্রারের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়ে রাইলি রুশোর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। রাহানের ব্যাট থেকে এসেছে ২৪ বলে ২৯ রান। একই ওভারের পরের বলে ফিরেছেন শিভাম দুবেও। চেন্নাইয়ের হয়ে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটারকেও লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেছেন হারপ্রীত। চারে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রবীন্দ্র জাদেজাও।

রাহুল চাহারের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে সামনের পায়ের ওপর ভর করে খেলতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তবে বলের লাইন মিস করায় তা আঘাত হানে জাদেজার প্যাডে। আম্পায়ার আউট দেয়ার পরও রুতুরাজের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ৪ বলে ২ রান করা জাদেজার। রাহানের ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে পাঁচে নামেন সামির রিজভী।

দ্রুত তিন উইকেট হারানোর চাপ সামলে দ্রুত রান তুলতে পারেননি তিনিও। কাগিসো রাবাদার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করে থার্ডম্যান দিয়ে খেলতে গিয়ে হার্শাল প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২৩ বলে ২১ রান করা সামির। তরুণ এই ব্যাটার ফেরার পর স্যাম কারানের বলে ছক্কা মেরে ৪৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন রুতুরাজ। যদিও ইনিংসের ১৮তম ওভারে ফিরেছেন ৬২ রানের ইনিংস খেলে। ১৫ রান করা মঈন আলীকে নিজের শিকার বানিয়েছেন চাহার। শেষ দিকে মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ রান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top